দুর্বল আর্থিক সামর্থ্যের বাংলাদেশে অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় এবং অপচয় বেশী
- বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সামর্থ্য দুর্বল। যদি কোন দেশের সর্বমোট সরকারি ব্যয় জিডিপি-র শতকরা ১৫ ভাগের কম হয় তাহলে ধরে নেয়া হয় ঐ দেশের আর্থিক সামর্থ্য দুর্বল। বাংলাদেশের সর্বমোট সরকারি ব্যয় জিডিপির-র শতকরা ৭ থেকে ৮ ভাগের মধ্যে।
- একটি দেশের কোন পরিবারকে সদস্যদের চিকিৎসা ব্যয়ের শতকরা ২০ থেকে ৩০ ভাগ যদি নিজের পকেট থেকে মেটাতে হয়, তাহলে ধরে নিতে হয় যে, ঐ দেশের জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
- বাংলাদেশের জনগণকে পরিবারের স্বাস্থ্য ব্যয়ের শতকরা ৬৯ ভাগ নিজের পকেট থেকে মেটাতে হয়। এই হার শতকরা ৩০ ভাগে নামাতে হলে রাষ্ট্রকে জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটের জন্য জিডিপি-র শতকরা ৪ ভাগ বরাদ্দ রাখতে হবে। যদি শতকরা ২০ ভাগে নামাতে হয়, তাহলে রাষ্ট্রকে জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটের জন্য জিডিপি-র শতকরা ৬ ভাগ বরাদ্দ রাখতে হবে।
- বাংলাদেশ বর্তমানে স্বাস্থ্য বাজেটের জন্য জিডিপি-র শতকরা ০.৮ থেকে ১.০ ভাগ ব্যয় করে থাকে।
- তবে এটি অনস্বীকার্য যে বাংলাদেশে সামাজিক খাতে বরাদ্দ এবং ব্যয় খুবই কম। কিন্তু, অপ্রয়োজনীয় যেমন সামরিক, পুলিশ, অবকাঠামো খাতে অত্যধিক বরাদ্দ রাখা হয়। সামাজিক খাতসহ সকল খাতে অপচয়ও অনেক।
- ২০০১ সালে আফ্রিকান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলি তাদের জাতীয় বাজেটের শতকরা ১৫ ভাগ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে এই ঘোষণা পৃথিবীর প্রতিটি রাষ্ট্রের মধ্যে জনপ্রিয় ও অনুসরণীয় হয়ে উঠে।
- আফ্রিকান দেশগুলি এই প্রতিশ্রুতি পালনের চেষ্টা করছে। তাদের গড় স্বাস্থ্য বাজেট মোট জাতীয় বাজেটের শতকরা ১১.৫ ভাগ।
- বাংলাদেশের ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের স্বাস্থ্য বাজেট মোট জাতীয় বাজেটের শতকরা ৫.২ ভাগ এবং জিডিপি-র শতকরা ০.৭ ভাগ।
থাইল্যান্ড সরকার স্বাস্থ্য খাতে কীভাবে বাজেট বরাদ্দ করে
থাইল্যান্ড সরকার সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। স্বাস্থ্য খাতে প্রতি বছরের জন্য বাজেট বরাদ্দের হিসাব মোটামুটি সোজাসাপটা। জনপ্রতি ২০২০ সালে ৩০৫ ডলার হিসাব করে যত টাকা লাগে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের জন্য মোট তত টাকা বরাদ্দ করা হয়।
এ অর্থ কি অনুপাতে কোন্ কোন্ উপখাতে ব্যবহৃত হবে তারও একটি সাধারণ দিক নির্দেশনা আছে। নীচের সারণীতে থাইল্যান্ডের সাম্প্রতিক সময়ের বরাদ্দ স্বাস্থ্য বাজেটের বিভাজন দেখানো হলো।
থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য বাজেটের বিভাজন
| স্বাস্থ্য সেবার ধরণ | বিভাজন |
| প্রতিরোধমূলক ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি | ২৩% |
| বহির্বিভাগীয় সেবা | ৩৭% |
| অন্ত ও জরুরী বিভাগীয় সেবা | ৩৬% |
| রোগী পূনর্বাসন | ১% |
| ভবন ও যন্ত্রপাতি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ | ৪% |
| রোগীর জন্য ক্ষতিপূরণ | ০.১% |
| স্বাস্থ্য সেবকের ক্ষতিপূরণ | ০.০০৪% |
| মোট= | ১০০% |