বাজেট সংস্থান নিয়ে যে পরামর্শ দেয়া হয়

যে কোন দেশকেই ক্রমান্বয়ে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকে যেতে হবে। অর্থ সংস্থান এবং ব্যয় নির্বাহের জন্য নিম্নোক্ত পরামর্শগুলি দেয়া হয়ে থাকেঃ

সম্পদ
সম্পদের সমাহার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করতে হবে।
জনসংখ্যার আওতা
প্রথমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আওতাভূক্ত করতে হবে।
ক্রমান্বয়ে অন্যান্য জনগেোষ্ঠীকে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।
স্বাস্থ্য সেবা
প্রথমে অত্যাবশ্যকীয় ও জরুরী স্বাস্থ্য সেবাকে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।
ক্রমান্বয়ে অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবাকে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।
ব্যয়
প্রথমে পরিবারের স্বাস্থ্য ব্যয়ের আউট অফ পকেট ব্যয় হ্রাস করতে হবে।
ক্রমান্বয়ে পরিবারের পুরো স্বাস্থ্য ব্যয় নির্বাহ করতে হবে।

পড়ুন »

স্বাস্থ্য বাজেট কেমন হওয়া উচিত

দুর্বল আর্থিক সামর্থ্যের বাংলাদেশে অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় এবং অপচয় বেশী

বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সামর্থ্য দুর্বল। যদি কোন দেশের সর্বমোট সরকারি ব্যয় জিডিপি-র শতকরা ১৫ ভাগের কম হয় তাহলে ধরে নেয়া হয় ঐ দেশের আর্থিক সামর্থ্য দুর্বল। বাংলাদেশের সর্বমোট সরকারি ব্যয় জিডিপির-র শতকরা ৭ থেকে ৮ ভাগের মধ্যে।
একটি দেশের কোন পরিবারকে সদস্যদের চিকিৎসা ব্যয়ের শতকরা ২০ থেকে ৩০ ভাগ যদি নিজের পকেট থেকে মেটাতে হয়, তাহলে ধরে নিতে হয় যে, ঐ দেশের জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
বাংলাদেশের জনগণকে পরিবারের স্বাস্থ্য ব্যয়ের শতকরা ৬৯ ভাগ নিজের পকেট থেকে মেটাতে হয়। এই হার শতকরা ৩০ ভাগে নামাতে হলে রাষ্ট্রকে জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটের জন্য জিডিপি-র শতকরা ৪ ভাগ বরাদ্দ রাখতে হবে। যদি শতকরা ২০ ভাগে নামাতে হয়, তাহলে রাষ্ট্রকে জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটের জন্য জিডিপি-র শতকরা ৬ ভাগ বরাদ্দ রাখতে হবে।
বাংলাদেশ বর্তমানে স্বাস্থ্য বাজেটের জন্য জিডিপি-র শতকরা ০.৮ থেকে ১.০ ভাগ ব্যয় করে থাকে।
তবে এটি অনস্বীকার্য যে বাংলাদেশে সামাজিক খাতে বরাদ্দ এবং ব্যয় খুবই কম। কিন্তু, অপ্রয়োজনীয় যেমন সামরিক, পুলিশ, অবকাঠামো খাতে অত্যধিক বরাদ্দ রাখা হয়। সামাজিক খাতসহ সকল খাতে অপচয়ও অনেক।
২০০১ সালে আফ্রিকান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলি তাদের জাতীয় বাজেটের শতকরা ১৫ ভাগ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে এই ঘোষণা পৃথিবীর প্রতিটি রাষ্ট্রের মধ্যে জনপ্রিয় ও অনুসরণীয় হয়ে উঠে।
আফ্রিকান দেশগুলি এই প্রতিশ্রুতি পালনের চেষ্টা করছে। তাদের গড় স্বাস্থ্য বাজেট মোট জাতীয় বাজেটের শতকরা ১১.৫ ভাগ।
বাংলাদেশের ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের স্বাস্থ্য বাজেট মোট জাতীয় বাজেটের শতকরা ৫.২ ভাগ এবং জিডিপি-র শতকরা ০.৭ ভাগ।

পড়ুন »

সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ এবং ব্যয়ের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

দেশের স্বাস্থ্য বাজেট অপ্রতুল

দেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য জাতীয় বাজেটের বরাদ্দ একেবারেই অপ্রতুল। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা বরাবরই সামাজিক খাত যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দরিদ্রদের নিরাপত্তা বেষ্টনী, কর্মসংস্থান, বেকারত্ব নিরসন, গণ-পেনশন ইত্যাদি খাতে অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবী জানিয়ে আসছে। বিগত সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিকট স্বাস্থ্য বিষয়ক সামাজিক খাতে বরাদ্দ বেশী দেখানোর কৌশল হিসাবে সামরিক বাহিনী-হাসপাতাল, পুলিশ-হাসপাতাল, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিচালিত-হাসপাতাল এবং সরকারি অনুদান-প্রাপ্ত বেসরকারি হাসপাতালে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বরাদ্দ স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ হিসেবে দেখাতো। এর ফলে সামরিক বা পুলিশ খাতে প্রকৃত বরাদ্দ কম দেখানো যেতো।

পড়ুন »

বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০-এর স্বাস্থ্য সূচকগুলোর অগ্রগতি

আমরা জানি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০-এ বেশ কিছু স্বাস্থ্য বিষয়ক লক্ষ্যমাত্রা এবং সূচক রয়েছে। লক্ষ্যমাত্রাগুলি পরবর্তী পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

পড়ুন »